বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীকে প্রাণে মারার চেষ্টার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয় রাজু খান!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়ী রুসেলের কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু খান (২১)। রুসেল সেই টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে পারেননি রাজু। বরং পরিকল্পনা করেন সেই টাকা আর কখনও না দেওয়ার। তিনি গত ঈদে দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে চা ও কোমল পানীয় পান করিয়ে প্রথমে মাথায় আঘাত ও পরে গলায় ধারালো চাকু বসিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন রুসেলকে।

রিমাণ্ডে থাকা রাজু আজ বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বন্ধু রুসেলকে প্রাণে মারার চেষ্টার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেন। রাজু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রুশন খানের পুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আহমদ রিমাণ্ডে থাকা আসামির স্বীকারাক্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, রাজু খান গত ৩/৪ বছর আগে পারিবারিক অভাব মোচনে বিশ্বনাথ সদরের একটি ফার্মেসিতে চাকরি নেন। পরে চুরির অভিযোগে ওই দোকানের মালিক তাকে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা সদরের আরেকটি ফার্মেসিতে চাকরি নিলে তার ওই চাকরিও একসময় চলে যায়। গতবছর রাজু নিষিদ্ধ ঘোষিত বিট কয়েন নামক এক ধরণের জুয়া খেলায় পারদর্শি হয়ে যান। নানা মানুষের কাছ থেকে লাখ টাকায় মাসে ৫০ হাজার টাকার লোভনীয় অফার দিয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান তিনি।

চলতি বছর করোনা মহামারিতে যখন লকডাউন শুরু হয়, ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে যায়, তখন অনেক ব্যবসায়ী পড়ে যান বিপাকে। প্রতিবেশী বন্ধু রুসেল মিয়াকে তখন লোভের ফাঁদে ফেলেন রাজু খান। রুসেলের কাছ থেকে প্রথমে বিদেশি একটি ফুল সেট কম্পিউটার (যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা) এবং রমজান মাসের শুরুতে ২০ হাজার টাকা ও পরবর্তীতে আরও ৫০ হাজার টাকা নেন রাজু। দুই কিস্তিতে ঈদের আগে ২৮ রমজানে মূল ৭০ হাজার টাকাসহ লভ্যাংশ দিয়ে দেবে বলে ওই টাকা হাতিয়ে নেযন তিনি। (২০ মে) ২৬ রমজান রুসেল টাকা চাইতে গেলে রাজুকে বাড়িতে না পেয়ে মোবাইলে কল করেন। তখন টাকা দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেন রাজু। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একদিন পর রাজু বেশকিছু ওষুধ হাতের তালুতে রেখে সেই ছবি হোয়াটসএপে পোস্ট করেন এবং এক খুদেবার্তায় রুসেলকে বলেন-‘ বন্ধু, আমি যদি মরে যাই আমাকে ক্ষমা করে দিস।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, একই গ্রামের দরস মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী রুসেল মিয়া ও একই গ্রামের রুশন খানের ছেলে রাজু খান পরস্পরের বন্ধু। রাজুর দেওয়া ঈদের দাওয়াতে ঘটনার রাতে রুসেল তার বাড়িতে যান। সেখানে চা ও কোমল পানীয় পান করে চেতনা হারান ব্যবসায়ী রুসেল। পরে পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে মাজারের বৈঠকখানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অচেতন রুসেলের মাথা ও গলায় আঘাত করে থেঁতলে দেওয়া হয়। এ সময় ওই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে রুবেল (২০) ও মৃত আপ্তাব মিয়ার ছেলে লিপন মিয়া (২১)। দূর থেকে মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোতে তারা দেখতে পান কেউ কাউকে টেনে-হিঁচড়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সামনে এগিয়ে তারা দেখতে পান রুসেলকে জড়িয়ে ধরে আছেন রাজু খান। উভয়কে রক্তাক্ত দেখে তারা ঘটনা জানতে চান। তখন রাজু বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে কে বা কারা রুসেলকে মেরে জখম করেছে। সে আমাকে কল দেওয়ায় আমি দৌড়ে এসে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পাই।’ পরে রাজুসহ তারা তিনজন রুসেলকে অজ্ঞান অবস্থায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে এ ঘটনায় রুসেলের চাচা আব্দুল আলী (৩২) বাদী হয়ে রাজুসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।