কর্ণেল (অব.) তাছাওয়ার রাজা চৌধুরীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহবান

কর্ণেল (অব:) দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারক এক ব্যক্তির হয়রানি ও প্রতারণা থেকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন তাছাওয়ার রাজা চৌধুরীর স্ত্রী মোসলেহা মুনিরা রাজা চৌধুরী।

তিনি এক বিবৃতি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রীমহল আমাদের ইমেজ ক্ষুন্ন এবং অবৈধ ফায়দা হাসিলে করতে পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেনা কমৃকর্তার সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা শিরোনামে একপেশে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত খবর প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আমাদেরকে নাজেহাল করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বিশ্বনাথ সহ বিভিন্ন এলাকা আমাদের জায়গা সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু আবু মোহাম্মদ চৌধুরী নামে একজন ব্যক্তি আমার স্বামী কর্ণেল (অব:) দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা চৌধুরী ও পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগি পেয়েছি। তাই সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আমি ও আমার সন্তানদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাবে জানাচ্ছি, আবু মোহম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া নামক ব্যক্তির সাথে আমাদের কোন ধরনের সম্পর্ক ও যোগাযোগ নেই। ওই ব্যক্তি যদি আমার স্বামীর নাম ও আমাদের নাম ভাঙিয়ে কারো কাছে প্রতারণার চেষ্টা করে তাহলে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করছি। ইতিপূর্বে আবু মোহম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া যাদেরকে প্রতারিত করেছেন অথবা প্রতারণা করার চেষ্টা করেছেন তাদের সকলের সাথে যোগাযোগ করে আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মোসলেহা মুনিরা রাজা চৌধুরী বলেন, আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরপে নেহেরু মিয়া এবং তার সাথে আরো কিছু জালিয়াতি চক্র মিলে প্রতারণায় সহযোগী হয়ে সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া মৌজার অন্তর্গত আমার স্বামীর অংশের জায়গা স্বামীর বোনের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। এছাড়া আরো কিছু এলাকায় আমাদের অংশের জমি বিক্রয় করার পায়তারা করছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষকে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তার সাথে বিভিন্ন এলাকার আরো কিছু জালিয়াতি চক্র মিলে আমাদেরকে হয়রানি ও নাজেহাল করছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নেহেরু মিয়া নিজেকে আমার স্বামীর ভাগিনা বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছেন। আমরা ন্যায় বিচারের জন্য এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। যারা কর্নেল (অবঃ) তাছাওয়ার রাজা ও তাঁর উত্তরাধিকারের সম্পদ আত্মসাত করছেন এবং করতে চাইছেন তারাই আবার খুব চাতুরতার সাথে আমার স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষদের হয়রানি করছে। এখানে মা’র চেয়ে মাসির দরদ বেশি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার মাধ্যমে আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করছে এবং করতে চাইছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীকে নিয়ে যখন আমরা কঠিন সময় পার করছি তখন এই সুযোগে আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরপে নেহেরু মিয়া ও তার সহযোগীরা আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার অংশের জায়গা আমি বা আমাদেরকে না জানিয়ে অন্যদের প্ররোচনায় জালিয়াতি ও প্রতারণা করে বিক্রি করে আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। আমার স্বামীর শারীরিক অসুস্থতা, সন্তানদের নির্বিগ্নে প্রতিপালন এবং পরিবারের সুনামের কথা চিন্তা করে এতদিন আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু এই ব্যক্তি এখন আমাদের জায়গা জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে ক্ষান্ত হচ্ছেন না বরং আমাদের বিরুদ্বে উল্টো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমাদের জায়গা-জমি আত্মসাৎ করার হীন পায়তারা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সৎ ও দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার মালিকানাধীন বিশ্বনাথ থানার রামপাশা মৌজাধীন বিভিন্ন দাগের কিছু জমি ২০১৮ সালে তৎকালীন সৌদি প্রবাসী মোঃ সফিক ক্রয় করেন। দলিল গ্রহীতা রেমিটেন্স যোদ্ধা সৌদি প্রবাসী মোঃ সফিক কিছুদিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে মানসিক চাপ ও বিষন্নতার কারণে মোঃ সফিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও আমরা শুনেছি। কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকায় বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন সাবরেজিস্ট্রার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ কমিশনে দলিলের রেজিষ্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন।

জমি জমা ক্রয়-বিক্রয়ে দাতা ও গ্রহীতার দলিলে গ্রামের বা এলাকার বাসিন্দারা পরিচিতজন হিসেবে স্বাক্ষী হয়ে উপস্থিত থাকেন। এটা এ অঞ্চলের সর্বোপরি আমাদের দেশের চিরাচরিত রীতি। দলিল সম্পাদনে সংশ্লিষ্ট সাবরেজস্ট্রার আইনি বিষয়াদি তদারকি করে থাকেন। গ্রামের নিরীহ ও আইনি বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দলিল সম্পাদনের বিধি ও খুঁটিনাটি বিষয় জানার কথা নয়। একজন সাবরেজিস্ট্রার বা তাঁর পক্ষে কমিশন দলিল সম্পাদন করতে সম্মত হলে উপস্থিত স্বাক্ষীরা সেটাকে সঠিক পন্থা হিসেবে মনে করবেন এটাই স্বাভাবিক।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার মালিকানা অংশই মোঃ সফিক ক্রয় করেন এবং দলিল সম্পাদন করা হয়। এখানে অন্য কারো অংশ গ্রহীতা মোঃ সফিক ক্রয় করেননি এবং এ ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এরপরে উক্ত জমি বিক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দরখাস্তকারী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী এবং কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার দুই বোন বাদী হয়ে একটি মামলা রুজু করেন। এই মামলায় বিবাদীদের সবাইকে সম্পূর্ণ হয়রানি ও নাজেহাল করতে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাদের অপরাধ তারা আমার এবং আমার সন্তানদের কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকেন। দলিল সম্পাদনে কোনো ধরণের জালিয়াতি সংঘটিত হয়নি। আমার স্বামীর টাকা আমি স্ত্রী হিসেবে আত্মসাৎ করেছি বলে উদ্ভট ও বানোয়াট তথ্য সংকীর্ণ হীন স্বার্থ হাসিলে এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে বলা হচ্ছে। আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরপে নেহেরু মিয়া এবং তার সাথে জালিয়াতি চক্র আমাদের বিপদের সময়ের সুযোগ গ্রহণ করে আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করার হীন চক্রান্তে মেতে উঠেছে। এ কাজে এলাকার কিছু জালিয়াতি চক্রের পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু ব্যক্তিরা আমাদের হয়রানি ও নাজেহাল করতে সহযোগিতা করছে।

দলিলে কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার অংশ ব্যাতিত অন্য কারো অংশও বিক্রয় করা হয়নি। এর পরেও সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের কমিশনের উপস্থিতিতে একটি দলিল সম্পাদিত হয়। দলিল সম্পাদনের বিধি অনুযায়ী প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি যদি থাকে তাহলে তা সংশোধনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমাদের কোনো বাধা নেই। কোনো কারণে দলিলে ত্রুটি ধরা পড়লেও এই জমি আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার উত্তরাধিকার হিসেবে আমাদের দায়িত্বে থাকবে। তাই এখানে জালিয়াতি ও আমার স্বামীর টাকা আত্মসাতের প্রশ্ন তুলা অবান্তর ও বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি। পরিবারের অন্য কারো অংশ বিক্রী করা না হলে আমার স্বামীর জায়গা সম্পত্তি নিয়ে আমি এবং আমার সন্তান ব্যাতিত অন্য কেউ এখানে জালিয়াতি বা আত্মসাতের প্রশ্ন তুলা হয়রানি ও হীন স্বার্থ হাসিল বৈ কিছু নয়।

তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দরখাস্তকারী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী তার নিজের প্রতারণা ও জালিয়াতিকে আড়াল করতে কোনো ধরণের ইন্টারেস্টেড পার্টি না হয়েও আমার পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন এবং আমাদেরকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করে হীনস্বার্থ কায়েম করতে চাচ্ছেন। মিডিয়াতে এ নিয়ে ধুমজাল সৃষ্টি করে অবৈধ ফায়দা হাসিল করা এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও গ্রামের নিরীহ মানুষদের ভয়-ভীতির মধ্যে রেখে তাদেরকে হয়রানি এবং আর্থিক ফায়দা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া কারো কাম্য নয়।

বিচারাধীন একটি মামলার বিষয়ে আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরপে নেহেরু মিয়া অসৎ ও প্রতিশোধপরায়ণ অভীষ্ঠ লক্ষ্য হাসিলে বিচারকে প্রভাবিত করার নিমিত্তে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউ পোর্টালে এ বিষয়ে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের যে বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে তদন্তকালীন সময়ে সেই তদন্ত আমার কাছে ও অন্য আসামীদের কাছে কি দাবি করেছেন এবং কি চেয়েছেন তা যখন উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে তখন বিষয়টি সকলের কাছে পরিষ্কার হবে। এতে করে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

সত্য গোপনকারীদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। মিথ্যা হয়রানি ও নাজেহালের জন্য আমরা যাতে আইনি প্রতিকার পাই তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। মিথ্যা প্রচারণা ও প্ররোচণা ডিঙিয়ে সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। স্বার্থান্বেষীমহলের এ ধরণের হীন স্বার্থ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) তাছাওয়ার রাজার সহকর্মীবৃন্দ, সাংবাদিকসহ ও অত্র এলাকার সকল মহলের সাহায্য ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন মোসলেহা মুনিরা রাজা চৌধুরী। বিজ্ঞপ্তি