করোনার মধ্যেই কৃষি বিপ্লবে এবং সোনার ধানে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ

সাত্তার আজাদ:: শিল্পর রঙ তুলিতে আঁকা ছবি নয়, নয় ফটোশপে কাজ করা কোনো ছবি- বাস্তব ছবি এটি। এই হল আমাদের গ্রামবাংলার বর্তমান চিত্রপট। আর এই চিত্রই বদলে দেবে করোনাকালের সকল অভিশাপ। দূর হবে গ্লানি, আবার ঘুরতে অর্থনীতির চাকা। কৃষি বিপ্লবে এবং সোনার ধানে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। এমনই ইঙ্গিত বহন করছে ধানের ভান্ডর খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার দেখার হাওরে।

তাই করোনাভাইরাস ও আকস্মিক বন্যার হুমকির মাঝে আশার কথা শোনাচ্ছে সিলেট অঞ্চলের কৃষি বিভাগ। সরকারের সব আয়োজনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান ঘরে তুলবেন কৃষক। চলতি বোরো মৌসুমে বিভাগের ৪টি জেলায় পাঁচ লাখ হেক্টর জমি থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বছরের একমাত্র ফসল ঘরে তুলতে প্রায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত কৃষকেরা।

সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় শ্রীনিবাস দেবনাথ পরিচালক অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৭৪ ১৯৫ হেক্টর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কীকরণ কেন্দ্র এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেয়। একদিকে করোনা আতঙ্কে ধান কাটার শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে বানের পানি, ফলে বছরের একমাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে উৎকষ্ঠায় ছিলেন কৃষকেরা।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার অন্য জেলা থেকে দ্রুত শ্রমিক পাঠানোর পাশাপাশি ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের হাতে তুলে দেয় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও রিপার মেশিন। ফলে সব বিপর্যয় কাটিয়ে কাঙ্খিত সোনালী ফসলের শতকরা ৭৫ ভাগ ঘরে তুলতে পেরে দারুন খুশি কৃষকেরা।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বল্পমেয়াদী ধান বিনা ধান-১৪, ১০, ১৮ বা ব্রি ধান-২৮, ৫৮, ৮১ রোপণ করতে পারলে সহজেই আকস্মিক বন্যায় ফসলহানি এড়ানো সম্ভব। তাই আগামীতে সে দিনে নজর দেবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষিবিভাগ।

সূত্র- শুভ প্রতিদিন