কমলগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্রায় ৫০ পরিবার পানিবন্দি

জোবায়ের আহমদ, মৌলভীবাজার:

কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দু’দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি ছড়ার পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার একরের আউশ ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

শনিবার (৬ই জুন) কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর, পতনউষার, শমশেরনগর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ভারী বর্ষনে ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বাঘাছড়া, ডালুয়াছড়া, ইছাছড়া ও লাউয়াছড়ার পানি উপচে ইসলামপুর ইউনিয়ন হয়ে আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হচ্ছে। ছড়ার বিভিন্ন কালভার্ট ভরাট, বাঁধ, ড্রেন বন্ধ করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি জমে জলাবদ্ধতায় আদমপুর, ইসলামপুর, শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনয়িনের প্রায় ৪ হাজার একরের আউশক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। অনেক বাড়িঘরও পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও, ঘোড়ামারা ও উত্তরবাগ গ্রামের প্রায় অর্ধশাতাকি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বন্দরগাঁও, শনগাঁও, তেতইগাও, পূর্বজালালপুর, উত্তরবাগ, মধ্যভাগ, জালালপুর, আধকানি, বগনগাও, ঘোড়ামারা গ্রামের পুরোদমে আউশক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ-কুমরা সড়কের আদমপুরের আধকানি ও ইসলামপুর ইউনিয়নের গোলের হাওর এলাকার রাস্তা প্রায় এক ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত আছে। শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী, বড়চেগ, কৃষ্ণপুর, হাজিনগর, সতিঝির গাঁও, রাধানগর ও মরাজানের পারের বেশ কিছু এলাকার আউশ ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পতনউষার ইউনয়িনের কেওলার হাওরেও নিমজ্জিত হচ্ছে আউশক্ষেত।

এবিষয়ে জানতে আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খতিব, সোয়াব আলী, সহিদ মিয়া ও আধকানি গ্রামের আরব আলী, সালাম মিয়া, রজব আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ হয়। তারা জানান, শতাধিক কৃষকের রোপিত আউশ ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। কয়েকদিন হলো রোপণের এখনই পানি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও চলতি মৌসুমের কিছু সবজি ক্ষেতও নিমজ্জিত হয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেন অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারি সহকারি মাঠ কর্মকর্তা (এডি) পূর্ণ সিংহ জানান,  বৃহস্পতিবার,শুক্রবার ও শনিবারের টানা বর্ষনে কয়েকটি পাহাড়ি ছড়ার তীর উপচে ইসলামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে জলাবন্ধতার সৃষ্টি করে। এই পানি আদমপুর হয়ে আলীনগর, শমশেরনগ ও পতনউষারে নিমজ্জিত হচ্ছে। অনেক স্থানের পানি এখন কমে গেছে। তিনি আশাবাদী দু এক দিনের মধ্যেই নিমজ্জিত জমি থেকে পানি নেমে যাবে।

এবিষয়ে,আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাহাড়ি ছড়ার পানিতে ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি ছিল। এছাড়া আট থেকে নয়টি গ্রামের তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ হেক্টরের আউশক্ষেত ও বেশকিছু সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, জলাবদ্ধতার করাণে ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত ছিল, এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তিনি শুক্রবার আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনয়িন এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে করে কি পরিমাণ ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত তা বলা যাবে। এ মুহুর্তে সঠিক হিসাব তিনি দিতে পারছেন না।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, আসলে স্থানীয় লোকজন তাদের জমিতে ভিটা ভরাট, ছড়ার কালভার্ট বন্ধ ও ড্রেনেজ বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার কিছু কালভার্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোও খুলে দেওয়া হবে।